বাংলাস্ফিয়ার: পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে ৩৩ বছরের মহম্মদ হাসান আবু সারমাদ আখতারকে গ্রেফতার করেছে মুম্বই পুলিশ। ২২ অক্টোবর মুম্বইয়ের মাহিম এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক তাঁকে পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশের অভিযোগ, আখতার সমাজমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন এবং উসকানিমূলক পোস্ট ও জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের বক্তব্যের অডিয়ো ক্লিপ ছড়িয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনটির প্রচার চালাতেন।

বিহারের বাসিন্দা আখতার প্রায় এক দশক ধরে মুম্বইয়ে থাকছিলেন বলে জানা গিয়েছে। মাহিমের ‘বাবা ফালুদা’-র কাছে আতর বিক্রি করতেন তিনি। পাশাপাশি র‍্যাপিডোর চালক হিসেবেও কাজ করতেন।

এর কয়েক মাস আগে, জুলাইয়ে জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে আট জনকে গ্রেফতার করেছিল গুজরাতের সন্ত্রাসদমন শাখা বা এটিএস। তাঁদের মধ্যে সাত জন গুজরাতের এবং এক জন মধ্যপ্রদেশের দেওয়াসের বাসিন্দা। গুজরাতের বনাসকাঁঠা, মেহসানা, নবসারি ও পাটন জেলা এবং মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস জেলায় যৌথ অভিযানের পর তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।

এটিএসের অভিযোগ ছিল, ওই ব্যক্তিরা গুজরাতে জইশ-ই-মহম্মদের একটি সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন এবং পাকিস্তানের দুই পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। তদন্তকারী সংস্থার আরও দাবি, তাঁরা অন্যদের সংগঠনে নিয়োগ করছিলেন এবং জইশের মতাদর্শ ছড়িয়ে দিতে সংগঠনটির প্রচারসাহিত্য গুজরাতিতে অনুবাদ করেছিলেন।

সংস্থাটির বক্তব্য অনুযায়ী, ওই গোষ্ঠী প্রায় তিন লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা পেয়েছিল। সেই টাকা দিয়ে একটি পুরনো গাড়ি কেনা হয়।

এটিএস জানিয়েছিল, অভিযানে জেহাদি বই, অডিয়ো ও ভিডিয়ো, ছবি এবং জইশ-ই-মহম্মদের একটি পতাকা উদ্ধার করা হয়েছে। সংগঠনে যোগ দেওয়ার আবেদন জানিয়ে মাসুদ আজহারের উদ্দেশে উর্দুতে লেখা আটটি চিঠিও বাজেয়াপ্ত করা হয়। পাশাপাশি উদ্ধার হয় আজহারের লেখা ‘দরস-এ-জিহাদ’ বইটির গুজরাতি অনুবাদ।